লাগাম নেই পেঁয়াজের দামে

অর্থনীতি

Sharing is caring!

নিজস্ব প্রতিবেদক
পেঁয়াজের দামে লাগাম টানার জন্য সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণের পরও ভোক্তারা এখনো আকাশচুম্বী দামে পেঁয়াজ কিনছেন।
রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রথম অবস্থায় বাজার তদারকির চিত্র দেখা গেলেও এখন তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সম্প্রতি প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা দরে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে ১৫০-২২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক জানান, পেঁয়াজের চাহিদার তুলনায় আমদানি অপ্রতুল এবং মজুদে ত্রুটি থাকার কারণে দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া বৃষ্টির কারণেও কৃষকরা উত্তোলনের সময় পেঁয়াজ মজুদ করতে পারেনি, যার জন্য বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি ছিল।
তিনি আরও বলেন, কতটা উৎপাদন হয়েছে ও কতটুকু আমদানি করতে হবে- এমন একটা জরিপ করা দরকার ছিল। এটা আমাদেরই ভুল ছিল। কোনো পণ্যের দাম মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, গত দুই মাসে পেঁয়াজের আমদানি কম হয়েছে। যেখানে মাসে ১ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি হতো, সেখানে ৭৫ হাজার টন কম আমদানি হচ্ছে। আর এজন্যই পেঁয়াজের দাম কমছে না। পেঁয়াজের দাম কমানোর জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে সমুদ্রবন্দরসহ আকাশ পথেও আমদানি করে সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে দাম কমে আসবে। কিন্তু তার এই বক্তব্যের পরদিনই পেয়াজের দাম কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে গেছে।
গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা বাজার, নয়াবাজার ও মালিবাগ কাঁচাবাজারে দেশি পেঁয়াজ ২৩০-২৪০ টাকা এবং মিয়ানমার ও মিশরের পেঁয়াজ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ দিকে রাজধানীর পাইকারি আড়ত শ্যামবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের কাছ থেকে জানা যায়, দেশি পেঁয়াজ ২২০ টাকা, মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ ১৭০-১৮০ টাকা এবং মিশর ও চীন থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।
অন্যদিকে বরিশাল ব্যুরো জানায়, বরিশাল নগরীতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছিল। এতে করে বরিশালের পাইকারি ও খোলা বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে আসছিল। কিন্তু দুই দিন বিক্রির পর টিসিবির সরবরাহকৃত পেঁয়াজ শেষ হয়ে যাওয়ায় বরিশালে পেঁয়াজের দাম বেড়ে ২৫০-২৭০ টাকা কেজি হয়।
ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের পর মিয়ানমার থেকে কম খরচে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করে। তবে প্রতি কেজি ২৪-২৫ টাকা কেজি পেঁয়াজ পাইকারিতে ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি করে। এই অবস্থায় প্রশাসন থেকে অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীদের জেল-জরিমানা শুরু করে। কিন্তু ব্যবসায়ীরাও জেল-জরিমানা ও গ্রেফতার এড়াতে পেঁয়াজের আমদানি কমিয়ে দেয়। এর ফলে বাজারে পেঁয়াজের সংকট দেখা দিয়েছে এবং উচ্চ দরে পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে।